এই লেখায়
বাংলাদেশের বেশিরভাগ অনলাইন শপের বছরের সবচেয়ে বড় বিক্রি হয় ঈদে। আবার সবচেয়ে বেশি ঝামেলাও এই সময়: স্টক শেষ, কুরিয়ারে জট, ইনবক্স ভর্তি মেসেজ, ঈদের পরে পৌঁছানো পার্সেল ফেরত। পার্থক্যটা গড়ে দেয় একটা ঠিকঠাক ঈদ সেল প্ল্যান।
এই লেখায় ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আজহার জন্য ধাপে ধাপে পরিকল্পনা: স্টক, অফার, ডেলিভারির শেষ তারিখ, বাড়তি লোক, অ্যাডের সময়সূচি, আর শেষে সপ্তাহভিত্তিক একটা চেকলিস্ট টেবিল।
দুই ঈদের পার্থক্য বুঝুন
দুই ঈদের কেনাকাটার ধরন এক না, তাই প্ল্যানও আলাদা হবে।
- ঈদুল ফিতর: নতুন জামাকাপড়, জুতা, কসমেটিকস, উপহারের মূল মৌসুম। রমজানের পুরো মাস জুড়ে কেনাকাটা চলে, শেষ দশ দিনে চাপ সবচেয়ে বেশি।
- ঈদুল আজহা: কোরবানির খরচের কারণে পোশাকে বাজেট অনেক সময় কম থাকে। রান্নাঘরের জিনিস, মসলা, কনটেইনার, ফ্রিজের ব্যাগ আর ছোট উপহার বেশি চলে।
চাঁদ দেখার ওপর ঈদের দিন নির্ভর করে, তাই সম্ভাব্য তারিখের এক দিন আগে-পরে ধরে প্ল্যান করুন।
স্টক পরিকল্পনা
ঈদের আগের শেষ দুই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে দাম আর ভিড় দুটোই বাড়ে, আর জনপ্রিয় ডিজাইন শেষ হয়ে যায়। তাই আগেভাগে:
- গত বছরের বিক্রি দেখুন: কোন পণ্য, সাইজ আর রং বেশি চলেছিল। রেকর্ড না থাকলে এ বছর থেকে রাখা শুরু করুন।
- সেরা বিক্রির পণ্যে বেশি স্টক: নতুন পরীক্ষামূলক ডিজাইনে অল্প।
- সাইজ অনুপাত ঠিক রাখুন: পোশাকে সাধারণত মাঝের সাইজগুলো বেশি চলে; নিজের বিক্রির রেকর্ড দেখে ঠিক করুন।
- সাপ্লায়ারের সাথে আগে কথা বলুন: দ্বিতীয় দফা মাল কবে পর্যন্ত দিতে পারবে, জেনে নিন।
- ওয়েবসাইটে স্টক আপডেট রাখুন: স্টক শেষ পণ্যে অর্ডার নিয়ে পরে ক্যানসেল করা কাস্টমারকে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে।
অফার সাজান লাভ হিসাব করে
ঈদে ছাড় না দিলে অনেকে মনে করেন বিক্রি হবে না। কিন্তু ভুল অফারে বেশি বিক্রি করেও লোকসান হয়।
- কম্বো অফার: যেমন পাঞ্জাবি আর টুপি একসাথে, বা তিনটা লিপস্টিকের সেট। গড় অর্ডারের অঙ্ক বাড়ে।
- ফ্রি ডেলিভারি একটা অঙ্কের ওপরে: যেমন ৳২,৫০০-এর বেশি কেনাকাটায়। অঙ্কটা নিজের গড় অর্ডার দেখে ঠিক করুন।
- আগাম অর্ডারে ছাড়: রমজানের প্রথম সপ্তাহে অর্ডার করলে ছোট ছাড়, এতে শেষ সপ্তাহের চাপ কমে।
- দাম বাড়িয়ে ছাড় দেখাবেন না: কাস্টমাররা আগের দাম মনে রাখেন, আস্থা নষ্ট হয়।
একটা কাল্পনিক হিসাব: একটা পাঞ্জাবি কেনা ৳৯০০, বিক্রি ৳১,৬৫০, প্রতি অর্ডারে অ্যাড খরচ ৳১৫০। ১৫% ছাড় দিলে বিক্রির দাম হয় প্রায় ৳১,৪০০, আর প্যাকেজিং, COD চার্জ আর রিটার্নের গড় খরচ ধরলে লাভ অনেকটা কমে যায়। অফার ঘোষণার আগে প্রফিট ক্যালকুলেটরে ছাড়ের পরের দাম বসিয়ে দেখে নিন হাতে কত থাকে।
EasyMall-এ প্রতিটা পণ্যে "compare at" দাম বসিয়ে আগের দাম কেটে ছাড়ের দাম দেখানো যায়, আর ঈদের পণ্যগুলো হোম পেজে আলাদা কালেকশনে সাজানো যায়।
ডেলিভারির শেষ তারিখ আর কুরিয়ার
ঈদের পরে পৌঁছানো পার্সেল প্রায়ই ফেরত আসে। তাই:
- কুরিয়ারের ঈদের সূচি জেনে নিন: কবে পর্যন্ত পিকআপ, কবে ছুটি, ঢাকার বাইরে কত দিন লাগছে।
- দুটো শেষ তারিখ ঘোষণা করুন: ঢাকার বাইরের জন্য আগে, ঢাকার ভেতরের জন্য কয়েক দিন পরে।
- তারিখটা সব জায়গায় দিন: পেজের পিন করা পোস্টে, ওয়েবসাইটের ব্যানারে, কনফার্মেশন কলে।
- শেষ তারিখের পরের অর্ডারে পরিষ্কার বলুন যে ঈদের পরে ডেলিভারি হবে।
- ব্যাকআপ কুরিয়ার রাখুন: একটা কুরিয়ারে জট হলে আরেকটা দিয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা।
- প্যাকেজিং আগেই কিনে রাখুন: পলিব্যাগ, বক্স, টেপ আর লেবেল ঈদের শেষ সপ্তাহে কিনতে গেলে সময় আর টাকা দুটোই বেশি যায়।
- অর্ডার কনফার্মেশন বাদ দেবেন না: ভিড়ের সময় তাড়াহুড়ো করে না কনফার্ম করা পার্সেল পাঠালে ঈদের পরে ফেরত আসার ঝুঁকি বাড়ে।
বাড়তি লোক আর কাজ ভাগ
ঈদে অর্ডার কয়েক গুণ হলে একা সব সামলানো কঠিন। আগে থেকে কাজ ভাগ করুন:
| কাজ | কে করবে | কখন |
|---|---|---|
| ইনবক্স আর কমেন্টের উত্তর | একজন নির্দিষ্ট | সারাদিন, পালা করে |
| অর্ডার কনফার্মেশন কল | আলাদা একজন | অর্ডার আসার এক ঘণ্টার মধ্যে |
| প্যাকিং আর লেবেল | এক বা দুইজন | প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে |
| কুরিয়ারে হস্তান্তর আর হিসাব | মালিক বা বিশ্বস্ত কেউ | দিনের শেষে |
পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কাউকে নিলে রমজানের আগেই কাজ বুঝিয়ে দিন। অর্ডারের স্ট্যাটাস এক জায়গায় থাকলে সবাই জানে কোনটা কনফার্মড, কোনটা পাঠানো হয়েছে। EasyMall-এর অর্ডার ম্যানেজমেন্ট ড্যাশবোর্ডে প্রতিটা অর্ডার নতুন, কনফার্মড, ডেলিভারড, ক্যানসেল বা রিটার্ন হিসেবে রাখা যায়। আলাদা টিম লগইন শিগগিরই আসছে।
অ্যাডের সময়সূচি
- রমজানের আগে: নতুন কালেকশনের টিজার, পেজে ফলোয়ার আর এনগেজমেন্ট বাড়ানো।
- রমজানের প্রথম ভাগ: কালেকশন লঞ্চ, আগাম অর্ডারের অফার। যে পোস্টগুলো স্বাভাবিকভাবে ভালো চলছে, সেগুলোতে বাজেট দিন।
- মাঝের ভাগ: সেরা বিক্রির পণ্যে বাজেট বাড়ান, যেগুলো চলছে না সেগুলো বন্ধ করুন।
- ডেলিভারির শেষ তারিখের আগে: "শেষ সুযোগ" বার্তা, ঢাকার বাইরের কাস্টমারদের জন্য আগে।
- শেষ তারিখের পরে: ঢাকার বাইরে টার্গেট করা অ্যাড বন্ধ বা কমিয়ে দিন, যাতে ডেলিভারি দিতে পারবেন না এমন অর্ডার না আসে।
ইফতারের পর আর সেহরির আগে অনেকে ফোন বেশি দেখেন বলে ধারণা আছে; নিজের পেজের ইনসাইটস দেখে নিশ্চিত হয়ে তবেই সময় বাছুন।
ঈদের কনটেন্ট আইডিয়া
শুধু "নতুন কালেকশন এসেছে" পোস্ট বারবার দিলে মানুষ স্ক্রল করে চলে যায়। কিছু বৈচিত্র্য আনুন:
- পরিবারের জন্য সেট: বাবা-ছেলের ম্যাচিং পাঞ্জাবি বা মা-মেয়ের মিলিয়ে জামা।
- বাজেট অনুযায়ী তালিকা: "৳১,০০০-এর নিচে ঈদ উপহার", "৳২,০০০-এর নিচে শাড়ি"।
- সাইজ আর কাপড় নিয়ে ছোট ভিডিও: কাস্টমারের সন্দেহ কমায়, রিটার্নও কমে।
- স্টক কাউন্টডাউন: সত্যিকারের স্টক কমে এলে "আর মাত্র কয়েক পিস বাকি"। মিথ্যা বলবেন না।
- ডেলিভারির শেষ তারিখের রিমাইন্ডার: একাধিকবার, বিভিন্নভাবে।
ইনবক্সের চাপ সামলানো
ঈদের সময় একই প্রশ্ন শতবার আসে: দাম কত, ডেলিভারি চার্জ কত, কবে পাবো, সাইজ কী আছে। এগুলোর উত্তর আগে থেকে সেভ করে রাখুন, আর পোস্টে ও ওয়েবসাইটে সরাসরি লিখে দিন। প্রতিটা পণ্যের সাইজ, দাম আর স্টক ওয়েবসাইটে থাকলে অনেকে প্রশ্ন না করেই অর্ডার দিয়ে দেন। Messenger আর কমেন্টে অটো রিপ্লাইয়ের সুবিধা EasyMall-এ শিগগিরই আসছে।
সপ্তাহভিত্তিক চেকলিস্ট
ঈদুল ফিতরের জন্য নিচের টেবিলটা ধরা হয়েছে। ঈদুল আজহায় সময়টা দুই-তিন সপ্তাহ ছোট করে নিন।
| সময় | যা করবেন |
|---|---|
| ঈদের ৮ সপ্তাহ আগে | গত বছরের বিক্রি দেখা, পণ্য তালিকা আর বাজেট ঠিক করা, সাপ্লায়ারের সাথে কথা |
| ৭ সপ্তাহ আগে | প্রথম দফা স্টক কেনা, অফার আর দামের হিসাব |
| ৬ সপ্তাহ আগে | পণ্যের ছবি তোলা, ওয়েবসাইটে পণ্য আর ঈদ কালেকশন তোলা |
| ৫ সপ্তাহ আগে | টিজার পোস্ট, কুরিয়ারের ঈদ সূচি জানা, প্যাকেজিং কেনা |
| ৪ সপ্তাহ আগে | কালেকশন লঞ্চ, আগাম অর্ডার অফার, অ্যাড শুরু, বাড়তি লোককে কাজ বোঝানো |
| ৩ সপ্তাহ আগে | সেরা পণ্যে অ্যাড বাড়ানো, দ্বিতীয় দফা স্টক, প্রতিদিন কনফার্মেশন আর ডেলিভারি |
| ২ সপ্তাহ আগে | ঢাকার বাইরের শেষ তারিখ ঘোষণা, স্টক শেষ পণ্য লুকানো |
| শেষ সপ্তাহ | ঢাকার ভেতরের শেষ তারিখ, বাইরের অ্যাড বন্ধ, বাকি পার্সেল দ্রুত পাঠানো |
| ঈদের পরে | রিটার্ন আর হিসাব মেলানো, ক্লিয়ারেন্স সেল, কাস্টমারদের ধন্যবাদ বার্তা |
EasyMall দিয়ে শুরু করুন
ঈদের আগে একটা ফ্রি স্টোর ওয়েবসাইট থাকলে কাস্টমার রাত-দিন যেকোনো সময় দাম, স্টক আর ঢাকার ভেতরে-বাইরের ডেলিভারি চার্জ দেখে নিজেই অর্ডার দিতে পারেন। ওয়েবসাইটের AI চ্যাট অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইজ, দাম আর ডেলিভারির প্রশ্নের উত্তর বাংলায় দেয়, যাতে ঈদের ভিড়ে আপনার ইনবক্সের চাপ কমে। কোনো কার্ড বা bKash ছাড়াই ফ্রি শুরু করুন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
ঈদের প্রস্তুতি কত আগে শুরু করা উচিত?
ঈদুল ফিতরের জন্য অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ আগে, অর্থাৎ রমজান শুরুর আগেই স্টক আর অফার ঠিক করা ভালো। ঈদুল আজহায় পোশাকের চাপ তুলনামূলক কম, তাই চার থেকে ছয় সপ্তাহ আগে শুরু করলেও চলে।
ঈদের আগে ডেলিভারির শেষ তারিখ কীভাবে ঠিক করব?
আপনার কুরিয়ারের ঈদের ছুটি আর ঢাকার বাইরে সাধারণ ডেলিভারির সময় জেনে নিন, তারপর তার সাথে কয়েক দিন বাড়তি ধরুন, কারণ ঈদের আগে সব শপ একসাথে পাঠায়। ঢাকার ভেতর আর বাইরের জন্য আলাদা শেষ তারিখ ঘোষণা করুন।
ঈদে কী ধরনের অফার ভালো চলে?
কম্বো অফার, নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি কেনাকাটায় ফ্রি ডেলিভারি, আর আগে অর্ডার করলে ছোট ছাড়। অফার দেওয়ার আগে লাভের হিসাব করে নিন যাতে ছাড়ের পর লোকসান না হয়।
ঈদের পর বেঁচে যাওয়া স্টক নিয়ে কী করব?
ঈদের পরপরই ছোট ক্লিয়ারেন্স সেল দিন, বা পরের উৎসব যেমন পহেলা বৈশাখ বা বিয়ের মৌসুমের জন্য রাখুন। মৌসুমি ডিজাইন বেশিদিন রাখলে দাম কমিয়েও বিক্রি কঠিন হয়।
ঈদুল আজহায় অনলাইন শপ কী বিক্রি করতে পারে?
পোশাকের পাশাপাশি রান্নাঘরের জিনিস, মসলা, মাংস রাখার কনটেইনার, ছুরি-বঁটি, ফ্রিজের ব্যাগ আর উপহারের প্যাকেজ এই সময় বেশি খোঁজা হয়। নিজের পণ্যের সাথে মেলে এমন কিছু যোগ করুন।
আজই আপনার অনলাইন শপ শুরু করুন
নিজের স্টোর ওয়েবসাইট, ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট, অর্ডার ম্যানেজমেন্ট আর বাংলায় উত্তর দেওয়া AI অ্যাসিস্ট্যান্ট। সারাজীবন ফ্রি, কোনো পেমেন্ট লাগবে না।
ফ্রি স্টোর খুলুন