এই লেখায়
- ধাপ ১: অনলাইন ব্যবসা শুরু করার নিয়মের প্রথম কাজ, প্রোডাক্ট আর কাস্টমার ঠিক করা
- ধাপ ২: পুঁজি আর দামের হিসাব করুন
- ধাপ ৩: ফেসবুক পেজ আর ওয়েবসাইট দিয়ে অনলাইন দোকান খুলুন
- ধাপ ৪: পেমেন্ট আর ক্যাশ অন ডেলিভারি ঠিক করুন
- ধাপ ৫: কুরিয়ার, প্যাকেজিং আর ফেক অর্ডার সামলান
- ধাপ ৬: ট্রেড লাইসেন্স, DBID আর অন্যান্য কাগজপত্র
- ধাপ ৭: লঞ্চ করুন আর প্রথম অর্ডার আনুন
- EasyMall দিয়ে শুরু করুন
"অনলাইনে কিছু বিক্রি করব" ভাবনাটা অনেকেরই আছে, কিন্তু শুরু করতে গিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। কী বিক্রি করব? কত টাকা লাগবে? পেজ খুলব না ওয়েবসাইট? ডেলিভারি কীভাবে হবে? লাইসেন্স লাগবে কি না?
এই লেখায় বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা শুরু করার নিয়ম ধাপে ধাপে বলা হয়েছে, একদম আইডিয়া থেকে প্রথম অর্ডার পর্যন্ত। মিরপুরের একজন শাড়ি সেলার, চট্টগ্রামের একটা গ্যাজেট পেজ বা সিলেটে ঘরে বানানো খাবারের ব্যবসা, সবার জন্যই ধাপগুলো মোটামুটি একই।
ধাপ ১: অনলাইন ব্যবসা শুরু করার নিয়মের প্রথম কাজ, প্রোডাক্ট আর কাস্টমার ঠিক করা
অনলাইন ব্যবসা শুরু করার প্রথম নিয়ম হলো পরিষ্কার একটা প্রোডাক্ট আর পরিষ্কার একজন কাস্টমার ঠিক করা। "সব কিছু বিক্রি করব" দিয়ে শুরু করলে কাউকেই ঠিকমতো টার্গেট করা যায় না।
নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করুন:
- আমি কোন জিনিস ভালো বুঝি? কাপড়ের মান, গ্যাজেটের স্পেসিফিকেশন, রান্না, স্কিনকেয়ার, যেটা জানেন সেটা বিক্রি করা সহজ।
- কোথা থেকে নিয়মিত মাল পাব? পাইকারি বাজার, নিজের বানানো, তাঁতি বা কারিগর, ইমপোর্টার।
- কাস্টমার কে? যেমন "ঢাকার ২৫-৪০ বছরের চাকরিজীবী নারী, যারা অফিসে পরার মতো কটন কুর্তি খোঁজেন"।
- কুরিয়ারে পাঠানো সহজ কি? ভাঙা যায় এমন, দ্রুত নষ্ট হয় এমন, বা খুব ভারী জিনিস শুরুতে ঝামেলা বাড়ায়।
- লাভ থাকবে কি? মাল, প্যাকেজিং, ডেলিভারি, বিজ্ঞাপন আর রিটার্নের খরচ বাদ দিয়ে।
আইডিয়া খুঁজলে দেখুন কম পুঁজিতে অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া। আর যা-ই বেছে নিন, শুরু করুন ছোট একটা পরিসরে: ১০ থেকে ২০টা প্রোডাক্ট দিয়ে।
ধাপ ২: পুঁজি আর দামের হিসাব করুন
অনেকে ব্যবসা শুরু করেন, অর্ডারও আসে, কিন্তু মাস শেষে দেখেন লাভ নেই। কারণ হিসাবটা শুরুতে করা হয়নি।
খরচগুলো আলাদা করে লিখুন
- প্রোডাক্টের কেনা দাম (পরিবহন খরচসহ)
- প্যাকেজিং: পলি, বক্স, টেপ, স্টিকার
- ডেলিভারি: কাস্টমার কতটা দেবেন আর আপনি কতটা বহন করবেন
- ক্যাশ অন ডেলিভারি চার্জ: অনেক কুরিয়ার কালেক্ট করা টাকার ওপর একটা চার্জ রাখে, বর্তমান রেট কুরিয়ারের কাছ থেকে জেনে নিন
- বিজ্ঞাপন: প্রতি অর্ডার পেতে গড়ে কত খরচ হচ্ছে
- রিটার্ন: কিছু পার্সেল ফেরত আসবেই, তার খরচ
একটা উদাহরণ
ধরুন একটা কুর্তি আপনি কিনলেন ৳৬৫০ দিয়ে। প্যাকেজিং ৳৩০, প্রতি অর্ডারে বিজ্ঞাপন খরচ গড়ে ৳১২০, আর রিটার্ন ও অন্যান্য খরচের জন্য আরও ৳৫০ ধরলেন। মোট খরচ দাঁড়াল ৳৮৫০। আপনি যদি ৳৯৫০-তে বিক্রি করেন, লাভ মাত্র ৳১০০। ৳১,১৫০-তে বিক্রি করলে লাভ ৳৩০০। দাম ঠিক করার আগে এভাবে প্রতিটা প্রোডাক্টের হিসাব করুন। (এখানের সংখ্যাগুলো শুধু উদাহরণ, আপনার আসল খরচ বসিয়ে হিসাব করুন।)
শুরুতে কম ঝুঁকি নিন
- পুরো পুঁজি একবারে মালে ঢালবেন না, কিছু টাকা বিজ্ঞাপন আর অপ্রত্যাশিত খরচের জন্য রাখুন।
- যেটা বেশি চলে সেটার স্টক বাড়ান, যেটা চলে না সেটা আর আনবেন না।
- সম্ভব হলে কিছু প্রোডাক্ট প্রি-অর্ডারে বিক্রি করে দেখুন চাহিদা কেমন।
ধাপ ৩: ফেসবুক পেজ আর ওয়েবসাইট দিয়ে অনলাইন দোকান খুলুন
বাংলাদেশে বেশিরভাগ অনলাইন ব্যবসা শুরু হয় ফেসবুক পেজ দিয়ে, আর ব্যবসা একটু দাঁড়ালে যোগ হয় ওয়েবসাইট। কোনটা কেন লাগে, দেখে নিন:
| মাধ্যম | কিসের জন্য ভালো | কী খেয়াল রাখবেন |
|---|---|---|
| ফেসবুক পেজ | মানুষের কাছে পৌঁছানো, পোস্ট, অ্যাড, কথোপকথন | পুরনো পোস্ট হারিয়ে যায়, অর্ডারের তথ্য মেসেজে ছড়িয়ে থাকে |
| নিজের ওয়েবসাইট | পুরো ক্যাটালগ, চেকআউট, অর্ডার ম্যানেজমেন্ট, গুগলে খুঁজে পাওয়া | ভালো প্ল্যাটফর্ম বেছে নিতে হয়, প্রোডাক্ট নিয়মিত আপডেট রাখতে হয় |
| Daraz-এর মতো মার্কেটপ্লেস | আগে থেকে থাকা কাস্টমার | মার্কেটপ্লেসের নিয়ম আর কমিশন মানতে হয়, নিজের ব্র্যান্ড কম দেখা যায় |
ফেসবুক পেজ সেটআপ
- পেজের নাম ছোট, মনে রাখার মতো, আর যা বিক্রি করেন তার সাথে মিল রেখে।
- পরিষ্কার লোগো আর কভার ফটো, যেখানে বোঝা যায় আপনি কী বিক্রি করেন।
- About অংশে ফোন নম্বর, WhatsApp, ডেলিভারি এলাকা আর পেমেন্ট পদ্ধতি।
- নিয়মিত পোস্ট: প্রোডাক্টের ছবি, দাম, সাইজ আর অর্ডারের নিয়ম পরিষ্কার করে।
ওয়েবসাইট কেন লাগবে
ওয়েবসাইট থাকলে কাস্টমার রাত ২টাতেও আপনার অপেক্ষা না করে দাম, স্টক আর ডেলিভারি চার্জ দেখে অর্ডার দিতে পারেন। নাম, ফোন আর ঠিকানা ঠিক ফরম্যাটে আসে, আর একটা লিংকেই পুরো দোকান শেয়ার করা যায়। কোডিং না জেনেও আজকাল স্টোর বিল্ডার দিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে ওয়েবসাইট চালু করা যায়। বিস্তারিত পড়ুন ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করার নিয়ম লেখায়।
প্রোডাক্টের ছবি আর বর্ণনা
অনলাইনে কাস্টমার প্রোডাক্ট ছুঁয়ে দেখতে পারেন না, তাই ছবি আর বর্ণনাই বিক্রি করে। দিনের আলোয়, পরিষ্কার ব্যাকগ্রাউন্ডে নিজের তোলা ছবি দিন। বর্ণনায় সাইজ, মাপ, কাপড়, রং আর বক্সে কী থাকে লিখুন। ছবি তোলার পুরো কৌশল আছে মোবাইল দিয়ে প্রোডাক্টের ছবি তোলা গাইডে।
ধাপ ৪: পেমেন্ট আর ক্যাশ অন ডেলিভারি ঠিক করুন
বাংলাদেশে এখনো বেশিরভাগ কাস্টমার ক্যাশ অন ডেলিভারিতে (COD) কিনতে চান, বিশেষ করে নতুন পেজ থেকে। পাশাপাশি অনেকে bKash বা Nagad-এ অ্যাডভান্স বা পুরো টাকা দেন।
শুরুতে যা ঠিক করবেন:
- ক্যাশ অন ডেলিভারি দেবেন কি না। সাধারণত দেওয়াই ভালো, কারণ এতে নতুন কাস্টমারের আস্থা বাড়ে।
- অ্যাডভান্স কখন নেবেন। দামি প্রোডাক্ট বা ঢাকার বাইরের অর্ডারে অনেকে ডেলিভারি চার্জটা অ্যাডভান্স নেন। নিয়মটা পেজে আর ওয়েবসাইটে পরিষ্কার লিখে রাখুন।
- ডেলিভারি চার্জ। ঢাকার ভেতরে আর বাইরে আলাদা চার্জ, আর চাইলে নির্দিষ্ট টাকার বেশি অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি।
- হিসাব রাখা। প্রতিটা অর্ডারের নম্বর, কাস্টমারের নাম, ফোন, টাকা আর অবস্থা (পেন্ডিং, কনফার্মড, ডেলিভার্ড, রিটার্ন) এক জায়গায় রাখুন।
শুরুর দিকে একটা সাধারণ নিয়ম কাজে দেয়: ঢাকার ভেতরের চার্জ আর ঢাকার বাইরের চার্জ আপনার কুরিয়ারের খরচের কাছাকাছি রাখুন, আর ফ্রি ডেলিভারির সীমাটা এমন রাখুন যাতে কাস্টমার একটার বদলে দুটো প্রোডাক্ট কিনতে উৎসাহী হন। ধরুন আপনার গড় অর্ডার ৳৯০০, তাহলে ৳১,৫০০-এর বেশি অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি দিলে অনেকে আরেকটা জিনিস যোগ করবেন। তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে ফ্রি ডেলিভারি দিয়েও লাভ থাকছে।
ধাপ ৫: কুরিয়ার, প্যাকেজিং আর ফেক অর্ডার সামলান
কুরিয়ার বাছাই
বেশিরভাগ অনলাইন ব্যবসা কুরিয়ার কোম্পানির মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে। কুরিয়ার আপনার কাছ থেকে পার্সেল তুলে নেয়, কাস্টমারের কাছ থেকে টাকা নেয়, আর পরে আপনাকে টাকা দেয়। তুলনা করুন:
- কোন এলাকায় ডেলিভারি দেয় (আপনার কাস্টমার যেখানে বেশি)
- ঢাকার ভেতরে আর বাইরে কতদিন লাগে
- ডেলিভারি চার্জ, COD চার্জ আর রিটার্ন চার্জ (বর্তমান রেট কুরিয়ারের কাছ থেকেই জানুন)
- কত দ্রুত আর কোন মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করে
- পিকআপ সুবিধা আর ট্র্যাকিং
একটার বেশি কুরিয়ারে অ্যাকাউন্ট রাখলে এক কুরিয়ারে সমস্যা হলে অন্যটা ব্যবহার করতে পারবেন। বিস্তারিত পড়ুন অনলাইন ব্যবসার জন্য কুরিয়ার সার্ভিস গাইডে।
প্যাকেজিং
- পানি আর ধুলা থেকে বাঁচাতে পলিব্যাগ, ভাঙার মতো জিনিসে বাবল র্যাপ আর শক্ত বক্স।
- প্যাকেটে আপনার পেজের নাম, ফোন নম্বর আর ওয়েবসাইট লেখা স্টিকার, যাতে কাস্টমার আবার অর্ডার করতে পারেন।
- ছোট একটা ধন্যবাদ কার্ড অনেক কাস্টমারের মনে থাকে।
ফেক অর্ডার কমানো
ক্যাশ অন ডেলিভারির সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হলো এমন অর্ডার যা কাস্টমার নেন না। কিছু সহজ অভ্যাস কাজে দেয়: নতুন কাস্টমার আর বেশি দামের অর্ডারে কল করে কনফার্ম করা, আগে রিটার্ন করা নম্বর খেয়াল রাখা, আর দামি বা দূরের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ অ্যাডভান্স নেওয়া। আরও উপায় আছে ফেক অর্ডার কমানোর উপায় লেখায়।
ধাপ ৬: ট্রেড লাইসেন্স, DBID আর অন্যান্য কাগজপত্র
অনেকে কাগজপত্রের ভয়ে শুরুই করেন না, আবার অনেকে কখনোই কাগজ ঠিক করেন না। দুটোই ভুল। সাধারণভাবে যা জানা দরকার:
- ট্রেড লাইসেন্স: আপনার এলাকার সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিতে হয়। ব্যবসার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা আর পেমেন্ট গেটওয়ে নেওয়ার জন্য সাধারণত এটা লাগে। ফি আর কাগজপত্র এলাকাভেদে আলাদা, তাই স্থানীয় অফিস থেকে জেনে নিন।
- DBID (ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি): অনলাইন আর ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) এই নিবন্ধন দেয়। প্রক্রিয়া আর প্রয়োজনীয় কাগজ সময়ের সাথে বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে সরকারি পোর্টাল থেকে সর্বশেষ নিয়ম দেখে নিন।
- e-TIN: আয় বাড়লে আর ব্যবসা নিয়মিত হলে কর সংক্রান্ত কাজের জন্য e-TIN লাগবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া যায়।
- ভোক্তা অধিকার: প্রোডাক্টের সঠিক বর্ণনা, সঠিক দাম আর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডেলিভারি দেওয়া শুধু ভালো ব্যবসাই না, আইনগত দায়িত্বও।
পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে জানতে পড়ুন অনলাইন ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স ও DBID।
ধাপ ৭: লঞ্চ করুন আর প্রথম অর্ডার আনুন
সবকিছু নিখুঁত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। সেরা ১০টা প্রোডাক্ট নিয়ে শুরু করুন, তারপর প্রতি সপ্তাহে বাড়ান।
লঞ্চের চেকলিস্ট
- পেজ আর ওয়েবসাইটে সব প্রোডাক্টের ছবি, দাম আর স্টক ঠিক আছে কি না দেখুন।
- নিজে একটা টেস্ট অর্ডার দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া চেক করুন।
- ডেলিভারি চার্জ, সময় আর রিটার্নের নিয়ম পরিষ্কার লেখা আছে কি না দেখুন।
- ফেসবুক পেজের বাটন, বায়ো আর পিন করা পোস্টে ওয়েবসাইটের লিংক দিন।
- পরিচিতদের মধ্যে শেয়ার করুন, প্রথম কয়েকজন কাস্টমারের কাছ থেকে সৎ মতামত চান।
প্রথম কাস্টমার পাওয়ার উপায়
- দ্রুত উত্তর দিন। মেসেজের উত্তর দিতে দেরি হলে কাস্টমার অন্য পেজে চলে যান।
- ছোট বাজেটে অ্যাড পরীক্ষা করুন। অল্প টাকায় কয়েকটা প্রোডাক্টে অ্যাড দিয়ে দেখুন কোনটায় সাড়া বেশি, তারপর সেখানে বাজেট বাড়ান।
- উৎসবের মৌসুম কাজে লাগান। ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখের আগে চাহিদা বাড়ে, তাই আগে থেকে স্টক আর অফার তৈরি রাখুন।
- পুরনো কাস্টমারকে মনে রাখুন। নতুন কালেকশন এলে তাদের জানান। একজন খুশি কাস্টমার নতুন কাস্টমার নিয়ে আসেন।
যে ভুলগুলো এড়াবেন
- হিসাব না করে দাম ঠিক করা।
- অন্যের ছবি চুরি করে ব্যবহার করা।
- "দাম ইনবক্সে" লিখে দাম লুকানো।
- স্টকের হিসাব না রাখা, ফলে এমন অর্ডার নেওয়া যা দিতে পারবেন না।
- ডেলিভারি চার্জ আগে না জানানো, ফলে দরজায় গিয়ে পার্সেল ফেরত।
EasyMall দিয়ে শুরু করুন
EasyMall বাংলাদেশের অনলাইন সেলারদের জন্য বানানো। সাইন আপ করলেই পাবেন:
- yourshop.easymall.app ঠিকানায় সাথে সাথে চালু হওয়া একটা স্টোর ওয়েবসাইট, পরে নিজের ডোমেইনও যুক্ত করা যায়।
- কোড ছাড়াই সব লেখা, ছবি আর রং বদলানোর এডিটর, আর মোবাইল-ফ্রেন্ডলি ডিজাইন।
- প্রোডাক্টের ছবি, দাম, অফার আর স্টক, সাথে ফ্রিতে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ।
- ঢাকার ভেতরে-বাইরে ডেলিভারি চার্জসহ ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট।
- অর্ডার ড্যাশবোর্ড, যেখানে স্টক নিজে থেকেই আপডেট হয়।
- AI চ্যাট অ্যাসিস্ট্যান্ট, যা বাংলা আর ইংরেজিতে কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর দেয়।
কুরিয়ার বুকিং, bKash ও Nagad-এ অনলাইন পেমেন্ট আর ফেসবুক মেসেঞ্জার অটো রিপ্লাই শিগগিরই আসছে। এখনই সারাজীবন ফ্রি স্টোর ওয়েবসাইট খুলুন, কোনো কার্ড বা bKash লাগবে না।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে?
এটা পুরোপুরি নির্ভর করে কী বিক্রি করবেন আর কতটা মাল আগে কিনবেন তার ওপর। প্রি-অর্ডার বা অল্প স্টক দিয়ে খুব কম টাকায় শুরু করা যায়, আবার পোশাক বা গ্যাজেটের স্টক কিনলে বেশি লাগে। শুরুতে মাল, প্যাকেজিং, বিজ্ঞাপন আর রিটার্নের জন্য আলাদা আলাদা বাজেট ধরে নিন।
অনলাইন ব্যবসার জন্য কি ট্রেড লাইসেন্স লাগে?
ছোট পরিসরে শুরু করে পরীক্ষা করা যায়, কিন্তু ব্যবসা নিয়মিত হলে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া উচিত। ব্যবসার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আর পেমেন্ট গেটওয়ের জন্য সাধারণত এটা লাগে। অনলাইন ব্যবসার জন্য আলাদা পরিচিতি হিসেবে DBID নেওয়ার ব্যবস্থাও আছে।
শুধু ফেসবুক পেজ দিয়ে কি অনলাইন ব্যবসা করা যায়?
হ্যাঁ, অনেকেই শুধু ফেসবুক পেজ দিয়ে শুরু করেন। তবে ব্যবসা বাড়লে একটা ওয়েবসাইট থাকলে পুরো ক্যাটালগ এক জায়গায় দেখানো যায়, অর্ডারের ঠিকানা আর ফোন নম্বর ঠিকভাবে আসে, আর গুগলেও আপনাকে খুঁজে পাওয়া যায়। বেশিরভাগ সেলার দুটোই একসাথে ব্যবহার করেন।
ঘরে বসে অনলাইন ব্যবসা কি মেয়েরা বা ছাত্ররা করতে পারে?
অবশ্যই। ঘরে বানানো খাবার, হাতের কাজ, পোশাক বা কসমেটিকসের মতো অনেক ব্যবসা ঘর থেকেই চালানো হয়। শুরুতে অল্প প্রোডাক্ট, সময়মতো উত্তর দেওয়া আর ঠিকঠাক ডেলিভারির দিকে মন দিলে ধীরে ধীরে বড় করা যায়।
প্রথম অর্ডার পেতে কী করব?
প্রথমে নিজের পরিচিতদের মধ্যে শেয়ার করুন, ভালো ছবিসহ নিয়মিত পোস্ট দিন, আর প্রতিটা মেসেজের দ্রুত উত্তর দিন। ছোট বাজেটে একটা টার্গেটেড ফেসবুক অ্যাড দিয়ে দেখুন কোন প্রোডাক্টে সাড়া বেশি। প্রথম কয়েকজন কাস্টমারের ভালো অভিজ্ঞতাই পরের অর্ডার নিয়ে আসে।
আজই আপনার অনলাইন শপ শুরু করুন
নিজের স্টোর ওয়েবসাইট, ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট, অর্ডার ম্যানেজমেন্ট আর বাংলায় উত্তর দেওয়া AI অ্যাসিস্ট্যান্ট। সারাজীবন ফ্রি, কোনো পেমেন্ট লাগবে না।
ফ্রি স্টোর খুলুন