এই লেখায়
ফেসবুক পেজে প্রতিদিন কয়েকটা করে অর্ডার আসতে শুরু করলে নিজে গিয়ে ডেলিভারি দেওয়া আর সম্ভব হয় না। তখন দরকার হয় অনলাইন ব্যবসার জন্য কুরিয়ার সার্ভিস: এমন একটা কোম্পানি যারা আপনার কাছ থেকে পার্সেল নিয়ে যাবে, কাস্টমারের দরজায় পৌঁছে দেবে, ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা তুলবে আর সেই টাকা আপনাকে ফেরত দেবে।
এই লেখায় আমরা দেখব মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট কী, কীভাবে খুলবেন, কুরিয়ার বাছাইয়ের সময় কোন কোন বিষয় মিলিয়ে দেখবেন, আর কীভাবে প্যাকেজিং ও হ্যান্ডওভার করলে রিটার্ন কমে।
কুরিয়ার মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট আসলে কী
মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট হলো কুরিয়ার কোম্পানির সাথে আপনার ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট। সাধারণ কাস্টমারের মতো প্রতিটা পার্সেলের জন্য কাউন্টারে গিয়ে টাকা দিতে হয় না। আপনি কুরিয়ারের মার্চেন্ট প্যানেল বা অ্যাপ থেকে পার্সেল বুক করেন, আর হিসাব পরে মেলানো হয়।
মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলে কুরিয়ার সাধারণত:
- পিকআপ করে আপনার বাসা, দোকান বা গোডাউন থেকে, অথবা আপনি নিজে হাবে ড্রপ করে দিতে পারেন।
- ডেলিভারি দেয় ঢাকার ভেতরে, চট্টগ্রাম-সিলেটের মতো বড় শহরে, আর ঢাকার বাইরের জেলা-উপজেলায়।
- ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা তোলে কাস্টমারের কাছ থেকে, আপনার হয়ে।
- নিজের চার্জ কেটে রাখে, যেমন ডেলিভারি চার্জ, COD চার্জ, রিটার্ন চার্জ।
- বাকি টাকা পাঠায় আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা bKash, Nagad এর মতো মোবাইল ওয়ালেটে।
- ট্র্যাকিং দেয়, যাতে আপনি আর কাস্টমার দুজনেই দেখতে পারেন পার্সেল কোথায় আছে।
এফ-কমার্স সেলারের জন্য কুরিয়ার হলো ব্যবসার মেরুদণ্ড। কাস্টমার কত দ্রুত প্রোডাক্ট পাবেন, কত পার্সেল ফেরত আসবে, আর নতুন স্টক কেনার টাকা কত তাড়াতাড়ি হাতে আসবে, সবই কুরিয়ারের ওপর অনেকখানি নির্ভর করে।
বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার জন্য জনপ্রিয় কুরিয়ার সার্ভিস
বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি কুরিয়ার কোম্পানি বিশেষ করে ই-কমার্স আর এফ-কমার্স সেলারদের জন্য কাজ করে। সেলারদের মুখে বেশি শোনা যায় এমন কয়েকটা নাম হলো Steadfast, Pathao Courier, RedX, Paperfly, eCourier। এর বাইরে Sundarban Courier এর মতো পুরোনো পার্সেল কুরিয়ারও আছে, যাদের সারা দেশে অনেক শাখা। প্রত্যেকের নিজস্ব মার্চেন্ট প্যানেল বা অ্যাপ, কভারেজ, চার্জ আর পেমেন্টের নিয়ম আছে।
আমরা এখানে কাউকে এক নম্বর-দুই নম্বর বলছি না। কারণ একটাই: পারফরম্যান্স এলাকা আর সময়ভেদে বদলায়। ঢাকার ভেতরে যে কুরিয়ার দারুণ, কোনো নির্দিষ্ট উপজেলায় সে হয়তো ধীর, আবার উল্টোটাও হতে পারে। চার্জ আর পেমেন্টের নিয়মও মাঝে মাঝে বদলায়, তাই কোনো ব্লগের রেট-লিস্ট খুব দ্রুত পুরোনো হয়ে যায়।
তার চেয়ে নিচের মাপকাঠিগুলো দিয়ে আপনার এলাকার কুরিয়ারগুলো তুলনা করুন, আর আসল পার্সেল পাঠিয়ে পরীক্ষা করুন।
কুরিয়ার মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
প্রত্যেক কোম্পানির প্রক্রিয়া একটু আলাদা, তবে বেশিরভাগই মোটামুটি এই ধাপগুলো মেনে চলে। আবেদনের আগে অবশ্যই কুরিয়ারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপে বর্তমান নিয়ম দেখে নিন।
- কুরিয়ারের মার্চেন্ট সাইন আপ পেজ বা অ্যাপে যান। বেশিরভাগের ওয়েবসাইটে "Merchant" বা "Sign up" অপশন থাকে, অনেকের Google Play তে মার্চেন্ট অ্যাপও আছে।
- ব্যবসার তথ্য দিন। সাধারণত শপ বা পেজের নাম, মালিকের নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল আর পিকআপ ঠিকানা।
- চাইলে পরিচয় ও ব্যবসার কাগজপত্র দিন। অনেক কুরিয়ার NID চায়। কেউ কেউ ট্রেড লাইসেন্স বা অন্য কাগজ চাইতে পারে, বিশেষ করে বড় অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে। ব্যবসা রেজিস্ট্রেশনের কথা ভাবলে পড়ুন অনলাইন ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স ও DBID।
- পেমেন্ট নেওয়ার মাধ্যম যোগ করুন। যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটে COD এর টাকা আসবে। নাম যেন আপনার তথ্যের সাথে মেলে।
- ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করুন। কোনো কুরিয়ার দ্রুত অ্যাকাউন্ট চালু করে, কেউ আগে ফোন করে তথ্য যাচাই করে।
- পিকআপ সেট করুন। পিকআপ লোকেশন দিন, পিকআপ নাকি ড্রপ-অফ ঠিক করুন, আর একই দিনে পিকআপের জন্য প্রতিদিনের কাট-অফ টাইম জেনে নিন।
- একটা টেস্ট পার্সেল পাঠান। ঈদ বা বড় ক্যাম্পেইনের আগে এক-দুটো আসল অর্ডার পাঠিয়ে পুরো প্রক্রিয়া বুঝে নিন।
সাইন আপের সময় এই প্রশ্নগুলো অবশ্যই করবেন:
- ঢাকার ভেতরে, ঢাকার আশেপাশে আর ঢাকার বাইরে ডেলিভারি চার্জ কত, আর ওজন বাড়লে কত বাড়ে?
- COD চার্জ আছে কি না, থাকলে কীভাবে হিসাব হয়?
- রিটার্ন পার্সেলের চার্জ কত, আর ফেরত আসতে কত দিন লাগে?
- কত দিন পরপর পেমেন্ট দেন, কোন অ্যাকাউন্টে?
- প্রতিদিন পিকআপের কাট-অফ টাইম কখন?
- পার্সেল হারালে বা নষ্ট হলে কার সাথে যোগাযোগ করব, ক্লেইমের নিয়ম কী?
- পরে ওয়েবসাইট থেকে বুক করতে চাইলে API বা প্লাগইন আছে কি?
কুরিয়ার তুলনা করার চেকলিস্ট
প্রতিটা কুরিয়ারের উত্তর একটা সাধারণ শিটে লিখে রাখুন। শোনা কথা নয়, নিজের অর্ডারের অভিজ্ঞতা দিয়ে একই মাপকাঠিতে তুলনা করুন।
| বিষয় | কী দেখবেন | কেন জরুরি |
|---|---|---|
| কভারেজ | কোন কোন জেলা-উপজেলায় ডেলিভারি দেয়, আপনার কাস্টমারদের এলাকা আছে কি না | যেখানে পৌঁছাতে পারে না, সেখানে সে কাজের না |
| ডেলিভারি টাইম | ঢাকার ভেতরে, বিভাগীয় শহরে আর দূরের জেলায় সাধারণত কত দিন | দেরি হলে পার্সেল ফেরত বেশি আসে |
| ডেলিভারি চার্জ | এলাকা আর ওজন অনুযায়ী চার্জ, বড় বা ভারী পার্সেলের বাড়তি খরচ | কাস্টমারের কাছ থেকে কত নেবেন আর লাভ কত থাকবে |
| COD চার্জ | তোলা টাকার ওপর কোনো ফি আছে কি না, কীভাবে হিসাব | প্রতিটা অর্ডারের লাভ থেকে কাটে |
| পেমেন্টের গতি | কত দিন পরপর টাকা দেয়, ন্যূনতম অ্যামাউন্ট, ব্যাংক নাকি ওয়ালেট | নতুন স্টক কেনার ক্যাশ ফ্লো |
| রিটার্ন | রিটার্ন চার্জ, কয়বার ডেলিভারির চেষ্টা করে, কত দ্রুত ফেরত আসে | ক্যাশ অন ডেলিভারির সবচেয়ে বড় লুকানো খরচ |
| ট্র্যাকিং | আপনার জন্য লাইভ স্ট্যাটাস, কাস্টমারের জন্য ট্র্যাকিং লিংক | "অর্ডার কোথায়?" মেসেজ কমে |
| পিকআপ | প্রতিদিন পিকআপ, কাট-অফ টাইম, ড্রপ-অফ পয়েন্ট | একই দিনে পিকআপ মানে দ্রুত ডেলিভারি |
| সাপোর্ট | ফোন, চ্যাট বা অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার, কত দ্রুত সাড়া দেয় | পার্সেল হারালে দ্রুত সাহায্য দরকার |
| API ও ইন্টিগ্রেশন | API, CSV দিয়ে একসাথে বুকিং, ওয়েবসাইটের প্লাগইন | দিনে অনেক অর্ডার হলে সময় বাঁচে |
ডেলিভারি চার্জ আর COD চার্জে আপনার লাভ কত থাকে
এই দুটো খরচ মিলেই ঠিক হয় প্রতিটা অর্ডার থেকে আপনার হাতে কত থাকবে। ধরুন রাজশাহীর এক কাস্টমার ৳১,২০০ দামের একটা কুর্তি অর্ডার করলেন। কাস্টমার প্রোডাক্টের দাম আর আপনার নির্ধারিত ডেলিভারি চার্জ দেবেন। সেখান থেকে কুরিয়ার তার ডেলিভারি চার্জ আর (যদি থাকে) COD চার্জ কেটে রাখবে। যত কুরিয়ার বিবেচনা করছেন, প্রত্যেকের বর্তমান রেট দিয়ে এই হিসাবটা করে দেখুন।
কাস্টমারের কাছ থেকে নেওয়া ডেলিভারি চার্জ দিয়ে যেন কুরিয়ারের খরচের বেশিরভাগ উঠে আসে। কীভাবে ঠিক করবেন, দেখুন ক্যাশ অন ডেলিভারি সেটআপ ও ডেলিভারি চার্জ লেখায়।
পেমেন্ট কত দ্রুত পাবেন
নতুন সেলাররা এটাকে প্রায়ই হালকাভাবে নেন। ধরুন ঈদের আগে আপনার ৳৫০,০০০ কুরিয়ারের কাছে কয়েক দিন আটকে আছে। তাহলে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টটা আবার কিনে আনতে পারবেন না। তাই জেনে নিন ঠিক কত দিন পরপর টাকা দেয়, দ্রুত পেমেন্টের জন্য আলাদা ফি আছে কি না, আর প্রতিটা পেমেন্টে কোন কোন পার্সেলের টাকা আছে সেটা কোথায় দেখবেন।
রিটার্ন কীভাবে সামলায়
ক্যাশ অন ডেলিভারিতে কিছু কাস্টমার পার্সেল নেবেন না, এটা মেনে নিতেই হবে। জেনে নিন রাইডার কয়বার ডেলিভারির চেষ্টা করেন, কাস্টমারকে ফোন করেন কি না, আর রিটার্ন পার্সেল আপনার হাতে আসতে কত দিন লাগে। রিটার্ন দেরিতে এলে সেই স্টক আটকে থাকে, অন্য কাউকে বিক্রি করা যায় না।
প্যাকেজিং: পার্সেল নষ্ট আর রিটার্ন কমানোর উপায়
ভালো প্যাকেজিং প্রোডাক্টকে সুরক্ষা দেয়, শপকে প্রফেশনাল দেখায়, আর কুরিয়ারের কাজও সহজ করে।
- সঠিক সাইজের প্যাকেট নিন। কাপড়ের জন্য পলি মেইলার, ভাঙতে পারে এমন জিনিস, কসমেটিকস বা গ্যাজেটের জন্য বক্স। বেশি ফাঁকা জায়গা থাকলে জিনিস নড়ে ভেঙে যায়।
- ভঙ্গুর জিনিসে বাবল র্যাপ দিন। কাচের বোতল, কসমেটিকস আর ইলেকট্রনিক্সে অবশ্যই। তরল জিনিস জিপ ব্যাগে ভরুন, যাতে লিক হলেও অন্য কিছু নষ্ট না হয়।
- কাপড়ের পার্সেল পানিরোধী রাখুন। বর্ষায় ভেতরে একটা প্লাস্টিকের লেয়ার শাড়ি আর কুর্তিকে বাঁচায়।
- শক্ত করে সিল করুন। ভালো টেপ ব্যবহার করুন। ব্র্যান্ডেড টেপ বা স্টিকার থাকলে কেউ খুললে বোঝা যায়।
- লেবেল পরিষ্কার রাখুন। কাস্টমারের নাম, ফোন, পুরো ঠিকানা আর COD অ্যামাউন্ট, ঠিক যেমন মার্চেন্ট প্যানেলে দিয়েছেন। কুরিয়ার লেবেল দিলে সেটা লাগান।
- একটা ইনভয়েস বা স্লিপ দিন। অর্ডার নম্বর, প্রোডাক্ট আর মোট টাকা। দরজায় প্রশ্ন কমে, বিশ্বাসও বাড়ে।
- একটা ধন্যবাদ কার্ড দিন। তাতে ওয়েবসাইটের লিংক বা ফেসবুক পেজের নাম রাখুন, যাতে কাস্টমার আবার সহজে অর্ডার করতে পারেন।
হ্যান্ডওভার: প্রতিদিনের সহজ রুটিন
একটা গোছানো হ্যান্ডওভার রুটিন প্রতিদিন সময় বাঁচায়, ভুলও কমায়।
- আগে অর্ডার কনফার্ম করুন। বেশি দামের বা নতুন কাস্টমারের অর্ডারে বুক করার আগে ফোন বা মেসেজ করুন।
- মার্চেন্ট প্যানেলে সঠিক তথ্য দিয়ে বুক করুন। COD অ্যামাউন্ট, ফোন নম্বর আর ঠিকানা মিলিয়ে নিন। এলাকা ভুল হলে ডেলিভারি দেরি হয়।
- প্যাক করে লেবেল লাগান, সাথে কুরিয়ারের ট্র্যাকিং বা কনসাইনমেন্ট নম্বর।
- কাট-অফ টাইমের আগে হ্যান্ডওভার দিন, যাতে পার্সেল সেদিনই রওনা হয়।
- পিকআপের সময় পার্সেল গুনে নিন, রাইডারের হিসাব আর আপনার হিসাব যেন মেলে।
- কাস্টমারকে মেসেজ দিন সম্ভাব্য ডেলিভারির সময় আর ট্র্যাকিং লিংক (থাকলে) সহ।
- অর্ডারের স্ট্যাটাস আপডেট করুন, যাতে বোঝা যায় অর্ডারটা পথে আছে।
প্রতি সপ্তাহ শেষে কুরিয়ারের পেমেন্ট আর ডেলিভারি হওয়া অর্ডার মিলিয়ে দেখুন। প্রতিটা ডেলিভারি হওয়া পার্সেলের টাকা কোনো না কোনো পেমেন্টে থাকা উচিত, আর প্রতিটা রিটার্ন পার্সেল আপনার তাকে ফিরে আসা উচিত।
কুরিয়ার নিয়ে সেলারদের সাধারণ ভুল
- শুধু সবচেয়ে কম চার্জ দেখে বাছাই। একটু সস্তা কুরিয়ারে যদি রিটার্ন বেশি হয় বা পেমেন্ট দেরিতে আসে, শেষে খরচ বেশিই পড়ে।
- পিক সিজনের আগে পরীক্ষা না করা। ঈদ বা পূজার কয়েক সপ্তাহ আগেই আসল পার্সেল দিয়ে কুরিয়ার পরীক্ষা করুন, ভিড়ের মধ্যে নয়।
- ভুল COD অ্যামাউন্ট। একটা টাইপো মানে ভুল টাকা তোলা, পরে উদ্ধার করা কঠিন।
- রিটার্নের হিসাব না রাখা। ফেরত আসা পার্সেল কোণায় জমে থাকে, স্টকের হিসাব গুলিয়ে যায়।
- অসম্পূর্ণ ঠিকানা। শুধু "মিরপুর" কোনো ঠিকানা না। বাসা, রোড, এলাকা আর একটা ল্যান্ডমার্ক নিন।
- একটাই কুরিয়ারের ওপর পুরো নির্ভর। ব্যস্ত সপ্তাহে সেই কুরিয়ারে সমস্যা হলে আপনার সব ডেলিভারি আটকে যাবে।
মেসেঞ্জারের চ্যাটে টুকরো টুকরো তথ্য জোড়া দেওয়ার চেয়ে একটা ভালো চেকআউট পেজে পুরো ঠিকানা আর সঠিক এলাকা নেওয়া অনেক সহজ। এ কারণেই অনেক সেলার শুধু ফেসবুক থেকে সরে ওয়েবসাইটও চালু করেন। বিস্তারিত পড়ুন ফেসবুক পেজের পাশাপাশি ওয়েবসাইট কেন দরকার।
EasyMall দিয়ে শুরু করুন
EasyMall প্রথম দিন থেকেই আপনাকে কুরিয়ারে পাঠানোর জন্য গোছানো অর্ডার এনে দেয়:
- ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট, যেখানে কাস্টমার নাম, বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর (যাচাই করা), পুরো ঠিকানা আর ঢাকার ভেতরে / ঢাকার বাইরে বেছে নেন।
- ঢাকার ভেতরে ও বাইরে আপনার নিজের ডেলিভারি চার্জ, সাথে চাইলে নির্দিষ্ট অ্যামাউন্টের ওপর ফ্রি ডেলিভারি।
- অর্ডার ড্যাশবোর্ড, যেখানে প্রতিটা অর্ডারের নম্বর আছে, স্ট্যাটাস pending থেকে confirmed, delivered বা cancelled, returned করা যায়, আর নাম, ফোন বা অর্ডার নম্বর দিয়ে খোঁজা যায়।
- প্রতিটা অর্ডারে স্টক নিজে থেকে কমে, আর ক্যানসেল বা রিটার্ন হলে আবার ফিরে আসে।
EasyMall থেকে সরাসরি Steadfast, Pathao আর RedX এ কুরিয়ার বুকিং শিগগিরই আসছে। সারাজীবন ফ্রি স্টোর ওয়েবসাইট খুলুন, কোনো কার্ড বা bKash লাগবে না।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
অনলাইন ব্যবসার জন্য কোন কুরিয়ার সার্ভিস সবচেয়ে ভালো?
সব শপের জন্য একটাই সেরা কুরিয়ার নেই। আপনার কাস্টমাররা কোন এলাকায় থাকেন, কী প্রোডাক্ট পাঠান, কত তাড়াতাড়ি টাকা দরকার আর রিটার্ন কেমন হয়, তার ওপর নির্ভর করে। অনেক সেলার দুটো কুরিয়ারে অ্যাকাউন্ট খুলে এলাকা অনুযায়ী যেটা ভালো সার্ভিস দেয়, সেটা দিয়ে পাঠান।
কুরিয়ার মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কী লাগে?
সাধারণত ব্যবসা বা পেজের নাম, মোবাইল নম্বর, পিকআপ ঠিকানা আর টাকা পাওয়ার জন্য ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট লাগে। অনেক কুরিয়ার NID চায়, কেউ কেউ ট্রেড লাইসেন্সও চাইতে পারে। নিয়ম বদলায়, তাই আবেদনের আগে কুরিয়ারের ওয়েবসাইট বা মার্চেন্ট সাপোর্টে জেনে নিন।
কুরিয়ার ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা কীভাবে দেয়?
কুরিয়ার কাস্টমারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজের ডেলিভারি চার্জ, COD চার্জ ও অন্যান্য খরচ কেটে বাকি টাকা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা bKash-Nagad এর মতো ওয়ালেটে পাঠায়। কত দিন পরপর পেমেন্ট হয়, সেটা কুরিয়ারভেদে আলাদা, তাই সাইন আপের সময় জেনে নিন।
কাস্টমার পার্সেল না নিলে কী হয়?
কুরিয়ার কয়েকবার চেষ্টা বা ফোন করার পর পার্সেলটি রিটার্ন হিসেবে আপনার কাছে ফেরত পাঠায়। বেশিরভাগ কুরিয়ার রিটার্নের জন্য চার্জ নেয়, তাই রিটার্ন চার্জ আর ফেরত আসতে কত দিন লাগে আগে থেকে জেনে রাখুন।
একসাথে একাধিক কুরিয়ার ব্যবহার করা যায়?
হ্যাঁ, অনেক বাড়তে থাকা শপ তাই করে। দুটো কুরিয়ার থাকলে আসল ডেলিভারি টাইম আর রিটার্ন রেট তুলনা করা যায়, ঈদের ভিড়ে একটা ব্যাকআপ থাকে, আর যে এলাকায় যে কুরিয়ার ভালো, সেখানে সেটা দিয়ে পাঠানো যায়।
আজই আপনার অনলাইন শপ শুরু করুন
নিজের স্টোর ওয়েবসাইট, ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট, অর্ডার ম্যানেজমেন্ট আর বাংলায় উত্তর দেওয়া AI অ্যাসিস্ট্যান্ট। সারাজীবন ফ্রি, কোনো পেমেন্ট লাগবে না।
ফ্রি স্টোর খুলুন