এই লেখায়
বাংলাদেশে বেশিরভাগ অনলাইন ব্যবসার শুরু একটা ফেসবুক পেজ দিয়ে। প্রথমে পরিচিতরা অর্ডার দেন, তারপর অ্যাড দিয়ে নতুন কাস্টমার আসেন। একসময় দেখা যায় দিনে ২০-৩০টা মেসেজ, সবাই জিজ্ঞেস করছেন "দাম কত?", "এটা আছে?", "সাইজ কী কী?"। অর্ডারের তথ্য ছড়িয়ে থাকে Messenger, কমেন্ট আর খাতায়।
এই অবস্থাতেই সময় এসেছে ফেসবুক পেজ থেকে অনলাইন শপ বানানোর, মানে পেজের পাশাপাশি নিজের একটা ওয়েবসাইট যেখানে কাস্টমার নিজেই দেখে, বেছে, অর্ডার দিতে পারেন। এই লেখায় ধাপে ধাপে দেখব কীভাবে সেটা করবেন, কোন ভুলগুলো এড়াবেন, আর পেজ আর ওয়েবসাইট একসাথে কীভাবে চালাবেন।
কেন শুধু ফেসবুক পেজ একসময় যথেষ্ট থাকে না
ফেসবুক পেজ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য দারুণ। কিন্তু দোকান হিসেবে এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে:
- পুরনো পোস্ট হারিয়ে যায়। তিন সপ্তাহ আগের কালেকশন খুঁজতে কাস্টমারকে অনেক স্ক্রল করতে হয়।
- প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর হাতে দিতে হয়। দাম, স্টক, সাইজ, ডেলিভারি চার্জ, একই কথা দিনে পঞ্চাশবার।
- অর্ডারের তথ্য অগোছালো। ঠিকানা এক মেসেজে, ফোন নম্বর আরেক মেসেজে, কোন সাইজ সেটা কমেন্টে।
- রাতে উত্তর দিতে না পারলে অর্ডার হারায়। কাস্টমার অপেক্ষা না করে অন্য পেজে চলে যান।
- পেজ বা অ্যাড অ্যাকাউন্টে সমস্যা হলে পুরো ব্যবসা থেমে যেতে পারে, কারণ দোকানটা আপনার নিজের জায়গায় নেই।
একটা ওয়েবসাইট এই সমস্যাগুলোর বেশিরভাগ মিটিয়ে দেয়। বিস্তারিত তুলনা পড়ুন ফেসবুক পেজ বনাম ওয়েবসাইট লেখায়।
ফেসবুক পেজ আর ওয়েবসাইট: কে কোন কাজ করবে
ওয়েবসাইট মানে পেজ বাদ দেওয়া না। দুটো মিলে কাজ করে। কাজ ভাগ করে নিন এভাবে:
| কাজ | ফেসবুক পেজ | ওয়েবসাইট |
|---|---|---|
| নতুন কাস্টমারের কাছে পৌঁছানো | পোস্ট, রিল, লাইভ, অ্যাড | গুগল সার্চ, শেয়ার করা লিংক |
| পুরো কালেকশন দেখানো | কঠিন, পোস্টে ছড়িয়ে থাকে | ক্যাটাগরি আর কালেকশন অনুযায়ী গোছানো |
| দাম, স্টক, সাইজ জানানো | মেসেজে হাতে উত্তর | প্রোডাক্ট পেজে সবসময় দেখা যায় |
| অর্ডার নেওয়া | মেসেজে তথ্য চেয়ে নেওয়া | চেকআউট ফর্মে নাম, ফোন, ঠিকানা |
| অর্ডার ট্র্যাক করা | খাতা বা স্প্রেডশিট | অর্ডার ড্যাশবোর্ড |
সহজ নিয়ম: পেজ দিয়ে মানুষ আনুন, ওয়েবসাইটে অর্ডার নিন।
ফেসবুক পেজ থেকে অনলাইন শপ বানানোর ৬টি ধাপ
এবার আসল কাজ। নিচের ধাপগুলো ক্রমানুসারে করলে এক-দুই দিনের মধ্যেই আপনার পেজের পাশে একটা চালু অনলাইন শপ দাঁড়িয়ে যাবে।
ধাপ ১: প্রোডাক্টগুলো গুছিয়ে নিন
ওয়েবসাইট বানানোর আগে পেজে যা যা বিক্রি করেন তার একটা তালিকা করুন। এটাই সবচেয়ে বেশি সময় নেয়, তাই আগে করে রাখলে পরে ঝামেলা কম।
প্রতিটা প্রোডাক্টের জন্য লিখে রাখুন:
- প্রোডাক্টের নাম (কাস্টমার যে নামে খোঁজেন, যেমন "সুতি থ্রি-পিস" বা "wireless earbuds")।
- বিক্রির দাম, আর অফার থাকলে আগের দাম।
- সাইজ, রং বা ভ্যারিয়েন্ট।
- কতগুলো স্টকে আছে।
- ৩-৫টা পরিষ্কার ছবি, নিজের তোলা।
- ছোট বর্ণনা: কাপড় বা ম্যাটেরিয়াল, মাপ, প্যাকেটে কী থাকে।
পেজের পোস্ট থেকে ছবি নিতে পারেন, তবে মোবাইলের গ্যালারিতে থাকা আসল ছবিই ভালো, কারণ ফেসবুকে আপলোড করা ছবির মান কমে যায়। ব্যাকগ্রাউন্ড এলোমেলো হলে ফ্রি ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।
ধাপ ২: ওয়েবসাইট বানানোর পথ বেছে নিন
ওয়েবসাইট বানানোর তিনটা সাধারণ পথ আছে:
- ডেভেলপার দিয়ে বানানো: নিজের মতো ডিজাইন পাওয়া যায়, কিন্তু খরচ আর সময় বেশি, আর পরে ছোট পরিবর্তনের জন্যও ডেভেলপারের ওপর নির্ভর করতে হয়।
- WooCommerce বা এ ধরনের নিজে সেটআপ করা সিস্টেম: নমনীয়, তবে হোস্টিং, প্লাগইন আর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ লাগে।
- স্টোর বিল্ডার: টেমপ্লেট বেছে নিয়ে নিজে মোবাইল থেকেই সব বসানো যায়, কোডিং লাগে না।
বেশিরভাগ ফেসবুক সেলারের জন্য স্টোর বিল্ডারই সবচেয়ে বাস্তব পথ। কোনটা কেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আছে ডেভেলপার বনাম ওয়েবসাইট বিল্ডার পেজে।
উদাহরণ হিসেবে, EasyMall-এর ফ্রি ই-কমার্স ওয়েবসাইট দিয়ে yourshop.easymall.app ঠিকানায় একটা স্টোর খুলতে কোনো টাকা, bKash বা কার্ড লাগে না। ফোন নম্বর বা ইমেইল দিয়ে সাইন আপ করলে মিনিট দুয়েকের মধ্যে স্টোর তৈরি হয়ে যায়।
ধাপ ৩: স্টোরটা পেজের মতো করে সাজান
কাস্টমার যেন পেজ থেকে ওয়েবসাইটে এসে বুঝতে পারেন যে এটা একই দোকান। তাই:
- একই নাম আর লোগো ব্যবহার করুন। পেজের নাম "রঙিন বুনন" হলে ওয়েবসাইটের নামও তাই।
- একই রং রাখুন, পেজের কভার ফটোর রঙের সাথে মিলিয়ে।
- হোম পেজে কালেকশন রাখুন, যেমন "নতুন এসেছে", "ঈদ কালেকশন", "৳999-এর নিচে"।
- যোগাযোগের তথ্য দিন: ফোন, WhatsApp, পেজের লিংক।
- ডেলিভারি আর রিটার্ন পলিসি আলাদা পেজে পরিষ্কার করে লিখুন।
EasyMall-এ রেডিমেড টেমপ্লেটের প্রতিটা লেখা, ছবি, রং আর সেকশন বদলানো যায়, আর ডিজাইন নিজে থেকেই মোবাইল-ফ্রেন্ডলি থাকে। পেজ থেকে ওয়েবসাইট বানানোর পুরো প্রক্রিয়া দেখুন ফেসবুক পেজ থেকে ওয়েবসাইট পেজে।
ধাপ ৪: ক্যাশ অন ডেলিভারি আর ডেলিভারি চার্জ সেট করুন
ফেসবুক কাস্টমার মূলত ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অভ্যস্ত, তাই ওয়েবসাইটেও সেটা রাখুন। চেকআউটে যা থাকা দরকার:
- ঢাকার ভেতরে আর ঢাকার বাইরে আলাদা ডেলিভারি চার্জ।
- অর্ডার কনফার্ম করার আগেই মোট টাকা দেখানো।
- পুরো নাম, সঠিক মোবাইল নম্বর আর পূর্ণ ঠিকানা বাধ্যতামূলক।
ডেলিভারি চার্জ কত রাখবেন, সেটা আপনার কুরিয়ারের বর্তমান রেট দেখে ঠিক করুন। হিসাবের জন্য পড়ুন ঢাকার ভেতরে ও বাইরে ডেলিভারি চার্জ। মোট টাকা আগে দেখালে দরজায় গিয়ে "এত টাকা কেন?" বলে পার্সেল ফেরতের ঘটনাও কমে।
ধাপ ৫: পেজের সাথে ওয়েবসাইট যুক্ত করুন
ওয়েবসাইট বানালেই কাস্টমার আসবেন না, তাদের রাস্তা দেখাতে হবে। যেখানে যেখানে লিংক দেবেন:
- পেজের অ্যাকশন বাটন: "Shop Now" বা "Visit Website" বাটনে ওয়েবসাইটের লিংক।
- About বা Intro অংশ: ওয়েবসাইটের ঠিকানা আর এক লাইনে "অর্ডার করতে ভিজিট করুন"।
- পিন করা পোস্ট: "এখন থেকে সব প্রোডাক্ট এক জায়গায়", সাথে লিংক।
- প্রতিটা প্রোডাক্ট পোস্ট: ক্যাপশনে সেই প্রোডাক্টের সরাসরি লিংক।
- মেসেজের উত্তর: "দাম কত?" প্রশ্নে দাম বলে প্রোডাক্টের লিংক পাঠান।
- অ্যাড: অ্যাডের গন্তব্য হিসেবে প্রোডাক্ট পেজ বা কালেকশন পেজ।
- প্যাকেট: স্টিকার বা ধন্যবাদ কার্ডে ওয়েবসাইটের ঠিকানা।
প্রথম কয়েক সপ্তাহ কিছু কাস্টমার মেসেজেই অর্ডার দিতে চাইবেন, সেটা ঠিক আছে। চাইলে তাদের তথ্য নিয়ে আপনি নিজেই অর্ডারটা ড্যাশবোর্ডে তুলে রাখুন, যাতে সব অর্ডার এক জায়গায় থাকে।
ধাপ ৬: অর্ডার আর মেসেজ সামলানোর নতুন অভ্যাস
ওয়েবসাইট চালুর পর দৈনন্দিন কাজ কিছুটা বদলায়:
- প্রতিদিন সকালে অর্ডার ড্যাশবোর্ড দেখুন। নতুন অর্ডার কনফার্ম করুন, তারপর প্যাক করুন।
- স্ট্যাটাস আপডেট রাখুন: নতুন, কনফার্মড, ডেলিভারড, ক্যানসেল বা রিটার্ন। EasyMall-এ ক্যানসেল বা রিটার্ন করলে স্টক নিজে থেকেই ফেরত যায়।
- স্টক ঠিক রাখুন, যাতে শেষ হয়ে যাওয়া প্রোডাক্টে অর্ডার না আসে।
- একই প্রশ্নের উত্তর অটোমেট করুন। ওয়েবসাইটের AI চ্যাট অ্যাসিস্ট্যান্ট আপনার প্রোডাক্ট আর পলিসি থেকে শিখে দাম, স্টক, ডেলিভারির প্রশ্নের উত্তর বাংলা, বাংলিশ বা ইংরেজিতে দিতে পারে, রাতেও।
Messenger আর ফেসবুক কমেন্টে অটো রিপ্লাই EasyMall-এ শিগগিরই আসছে। ততদিন পেজের মেসেজ আপনি নিজে দেখুন, আর উত্তরে ওয়েবসাইটের লিংক দিন।
যে ভুলগুলো এড়াবেন
- ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলে রাখা। নতুন প্রোডাক্ট পেজে দিলেন অথচ ওয়েবসাইটে দিলেন না, তাহলে কাস্টমার বিভ্রান্ত হন।
- পেজ আর ওয়েবসাইটে আলাদা দাম। দাম সব জায়গায় এক রাখুন।
- শুধু হোম পেজের লিংক দেওয়া। কাস্টমারকে সরাসরি প্রোডাক্টের লিংক দিন, খোঁজার কষ্ট দেবেন না।
- অন্যের ছবি ব্যবহার করা। নিজের তোলা ছবিতে বিশ্বাস বাড়ে।
- সব একবারে নিখুঁত করার চেষ্টা। ছোট করে চালু করুন, তারপর প্রতি সপ্তাহে উন্নত করুন।
EasyMall দিয়ে পেজ থেকে শপে যান
আপনার ফেসবুক পেজকে একটা পূর্ণ অনলাইন শপে পরিণত করতে EasyMall-এ পাবেন ফ্রি স্টোর ওয়েবসাইট, আনলিমিটেড প্রোডাক্ট আর ছবি, ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট, অর্ডার ড্যাশবোর্ড আর AI চ্যাট অ্যাসিস্ট্যান্ট। পরে চাইলে Starter প্ল্যান থেকে নিজের ডোমেইনও যুক্ত করা যায়। কোনো কার্ড বা bKash ছাড়াই আজই ফ্রি স্টোর খুলুন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
ফেসবুক পেজ থাকলে কি আলাদা ওয়েবসাইট লাগে?
শুরুতে শুধু পেজ দিয়েই চলে, কিন্তু অর্ডার বাড়লে ওয়েবসাইট অনেক কাজ সহজ করে। পুরো ক্যাটালগ এক জায়গায় থাকে, কাস্টমার নিজেই দাম আর ডেলিভারি চার্জ দেখে অর্ডার দিতে পারেন, আর অর্ডারের নাম, ফোন, ঠিকানা গুছিয়ে আসে।
ওয়েবসাইট বানালে কি ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দেব?
না। পেজ থাকবে কাস্টমারের কাছে পৌঁছানো, পোস্ট, লাইভ আর অ্যাডের জন্য। ওয়েবসাইট হবে অর্ডার নেওয়ার জায়গা। পোস্ট আর অ্যাড থেকে কাস্টমারকে ওয়েবসাইটের প্রোডাক্ট লিংকে পাঠান।
কোডিং না জেনে কি ওয়েবসাইট বানানো যায়?
হ্যাঁ। এখন অনেক স্টোর বিল্ডার আছে যেখানে টেমপ্লেট বেছে নিয়ে ছবি, দাম আর লেখা বসালেই দোকান চালু হয়ে যায়। EasyMall-এ ফোন নম্বর বা ইমেইল দিয়ে কয়েক মিনিটে ফ্রি স্টোর খোলা যায়।
ওয়েবসাইটে কি ক্যাশ অন ডেলিভারি রাখা যায়?
হ্যাঁ, বাংলাদেশের জন্য বানানো প্ল্যাটফর্মে সাধারণত ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট থাকে। EasyMall-এ ঢাকার ভেতরে আর বাইরে আলাদা ডেলিভারি চার্জসহ COD চেকআউট আছে।
পেজের পুরনো কাস্টমারদের ওয়েবসাইটের কথা কীভাবে জানাব?
পেজের বাটন, About অংশ আর পিন করা পোস্টে লিংক দিন। মেসেজের উত্তরে প্রোডাক্টের সরাসরি লিংক পাঠান, প্যাকেটের স্টিকারে ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নিয়মিত কাস্টমাররা অভ্যস্ত হয়ে যান।
আজই আপনার অনলাইন শপ শুরু করুন
নিজের স্টোর ওয়েবসাইট, ক্যাশ অন ডেলিভারি চেকআউট, অর্ডার ম্যানেজমেন্ট আর বাংলায় উত্তর দেওয়া AI অ্যাসিস্ট্যান্ট। সারাজীবন ফ্রি, কোনো পেমেন্ট লাগবে না।
ফ্রি স্টোর খুলুন